সকল লেখা জানতে চাই
Searching…

প্রশ্নটি
64
বার দেখা
হয়েছে

Human connection

Why human connection is so hard these days?
And how Left is gonna solve this problem?

4 মাস আগে

Primitive Agonies

জানতে চেয়েছেন

Primitive Agonies

1 টি উত্তর

আজকের পৃথিবীতে মানুষে মানুষে দূরত্ব সত্যিই আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। চারপাশে হাজারো মানুষ, অসংখ্য অনলাইন ফ্রেন্ড, সারাদিন মেসেজ আর নোটিফিকেশন, তবুও ভেতরে এক ধরনের শূন্যতা কাজ করে। অনেকেই অনুভব করেন যে আগের মতো গভীর সম্পর্ক তৈরি করা কঠিন হয়ে গেছে। এর কারণ শুধু প্রযুক্তি নয়, বরং আমাদের জীবনযাত্রা, অর্থনীতি এবং সামাজিক কাঠামোর পরিবর্তনও এর সঙ্গে জড়িত। আজ মানুষকে এমন একটি প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে বাঁচতে হয়, যেখানে সময়ের চেয়ে কাজ বেশি, আয়ের চেয়ে খরচ বেশি, আর নিরাপত্তার চেয়ে অনিশ্চয়তা বেশি। ফলে সম্পর্ক গড়ে তোলার মতো মানসিক শক্তি এবং সময় অনেকেরই থাকে না।

বামপন্থী রাজনীতি এই সমস্যাকে মূলত সামাজিক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করে। তাদের মতে, মানুষ স্বাভাবিকভাবেই সামাজিক প্রাণী। কিন্তু যখন সমাজ এমনভাবে গড়ে ওঠে যেখানে সবাইকে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে শেখানো হয়, তখন সহযোগিতার জায়গা কমে যায়। চাকরির অনিশ্চয়তা, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, বাড়তি জীবনযাত্রার খরচ এবং ক্রমবর্ধমান বৈষম্য মানুষকে মানসিকভাবে ক্লান্ত করে তোলে। একজন মানুষ যখন প্রতিদিন শুধু টিকে থাকার চিন্তায় ব্যস্ত থাকে, তখন বন্ধুত্ব, ভালোবাসা কিংবা সমাজের জন্য সময় বের করা তার কাছে বিলাসিতা হয়ে দাঁড়ায়।

এই কারণেই বামপন্থীরা মনে করেন, মানবিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করতে হলে শুধু মানুষকে ভালো হতে বললেই হবে না, সমাজের কাঠামোকেও বদলাতে হবে। যদি কর্মঘণ্টা কমানো যায়, শ্রমের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা যায়, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা সহজলভ্য হয় এবং বাসস্থান আরও সাশ্রয়ী হয়, তাহলে মানুষের হাতে নিজের পরিবার, বন্ধু এবং সমাজের জন্য আরও সময় থাকবে। একই সঙ্গে পার্ক, লাইব্রেরি, কমিউনিটি সেন্টার এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মতো জনপরিসরে বিনিয়োগ বাড়ালে মানুষ অর্থ খরচ না করেও একে অপরের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পাবে। বামপন্থীরা বিশ্বাস করে, শুধু বাজার নয়, সমাজেরও একটি ভূমিকা আছে, আর সেই সমাজকে শক্তিশালী করতে রাষ্ট্রেরও দায়িত্ব রয়েছে।

তবে এটাও সত্য যে এই ব্যাখ্যাই একমাত্র ব্যাখ্যা নয়। অনেক গবেষক ও চিন্তাবিদ মনে করেন, একাকীত্বের পেছনে শুধু অর্থনৈতিক কারণ নয়, পরিবার ভেঙে যাওয়া, সামাজিক আস্থার সংকট, অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহার, রাজনৈতিক বিভাজন এবং ব্যক্তিগত জীবনযাপনের পরিবর্তনও সমানভাবে দায়ী। অর্থনৈতিক বৈষম্য কমে গেলেও মানুষ যদি একে অপরের কথা শোনা, সময় দেওয়া এবং বিশ্বাস করতে না শেখে, তাহলে কেবল নীতিমালা বদলে গভীর সম্পর্ক তৈরি করা সম্ভব নয়।

তাই বাস্তবতা সম্ভবত মাঝামাঝি কোথাও। একটি ন্যায্য সমাজ মানুষের জন্য সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করতে পারে, কিন্তু সেই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত মানুষেরই। ভালো বন্ধুত্ব, ভালোবাসা এবং পারস্পরিক বিশ্বাস কোনো সরকার তৈরি করে দিতে পারে না। তবে এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব, যেখানে মানুষ সারাক্ষণ বেঁচে থাকার লড়াইয়ে না থেকে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর সময় এবং মানসিক শক্তি খুঁজে পায়। বামপন্থীরা মনে করে, অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার সেই পথকে সহজ করতে পারে। সমালোচকেরা বলেন, এর পাশাপাশি ব্যক্তিগত মূল্যবোধ, পরিবার এবং শক্তিশালী সামাজিক সংস্কৃতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। মানবিক সম্পর্কের সংকটের সমাধান তাই একক কোনো মতাদর্শে নয়, বরং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ এবং সচেতন মানুষের যৌথ প্রচেষ্টার মধ্যেই লুকিয়ে আছে।

3 মাস আগে

চিত্রণ ভট্টাচার্য আদি

উত্তর দিয়েছেন

চিত্রণ ভট্টাচার্য আদি

ছাত্রনেতা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট

উত্তর দিন

উত্তর দিতে লগইন করুন

Reading

Font size