সকল লেখা জানতে চাই
Searching…

প্রশ্নটি
200
বার দেখা
হয়েছে

কমিউনিস্টদের কাছে দুটি প্রশ্ন

১) কমিউনিস্ট হতে গেলে কি নাস্তিক হওয়া বাধ্যতামূলক?

২) কমিউনিস্টরা কি ঈশ্বরের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে?

4 মাস আগে

Partha Pratim Panday

জানতে চেয়েছেন

Partha Pratim Panday

3 টি উত্তর

সেরা উত্তর
মজদুর কর্তৃক নির্বাচিত
সাম্যবাদ ও ধর্মকে কেন্দ্র করে সমাজে যে গভীর বিভ্রান্তি রয়েছে, তার একটি বড় কারণ তাত্ত্বিক দর্শন ও বাস্তব রাজনৈতিক রণকৌশলের পার্থক্যটি বুঝতে না পারা। কম্যুনিস্ট আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার জন্য ব্যক্তিগতভাবে নাস্তিক হওয়া কোনো বাধ্যতামূলক শর্ত নয়। মার্ক্সবাদ পৃথিবীকে চেনার জন্য বৈজ্ঞানিক ও বস্তুগত দৃষ্টিভঙ্গি লালন করে ঠিকই, কিন্তু এর মূল লড়াই ঈশ্বরের বিরুদ্ধে নয়, বরং মানুষের তৈরি করা শোষণ, বৈষম্য এবং শ্রেণির বিরুদ্ধে। বাংলাদেশের মতো সমাজবাস্তবতায় মানুষের সংস্কৃতি ও দৈনন্দিন আবেগের সাথে ধর্ম গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। এখানে ধর্মকে শত্রু মনে করা এক বিশাল রাজনৈতিক ভুল। একজন মানুষ নিজের ব্যক্তিগত ধর্মীয় বিশ্বাস বজায় রেখেও শোষিত শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে একজন নিবেদিতপ্রাণ কম্যুনিস্ট হতে পারেন। সাম্যবাদ মানুষকে ধর্মের ভিত্তিতে বিভক্ত না করে শ্রেণির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ করতে চায়।
কম্যুনিস্টরা মহাবিশ্ব ও সমাজকে বোঝার ক্ষেত্রে কোনো অতিপ্রাকৃতিক শক্তির ওপর নির্ভর করেন না, তবে তারা মানুষের জীবনে ধর্মের মনস্তাত্ত্বিক প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্বকে গভীরভাবে স্বীকার করেন। কার্ল মার্ক্সের ধর্মসংক্রান্ত বিশ্লেষণকে প্রায়ই ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়। তিনি ধর্মকে জনগণের আফিম বলেছিলেন। সমসাময়িক সময়ে আফিম কেবল কোনো ক্ষতিকর মাদক ছিল না, বরং তা ছিল তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করা রোগীর একমাত্র বেদনানাশক বা উপশমকারী ওষুধ। মার্ক্স বোঝাতে চেয়েছিলেন যে এই নিষ্ঠুর ও শোষণমূলক সমাজব্যবস্থায় মানুষ যখন চরম যন্ত্রণার মুখোমুখি হয়, তখন ধর্ম তাকে এক ধরণের মানসিক সান্ত্বনা ও বেঁচে থাকার শক্তি দেয়।
কার্ল মার্ক্স নিজেই লিখেছেন যে ধর্ম হলো নিপীড়িত প্রাণীর দীর্ঘশ্বাস, হৃদহীন পৃথিবীর হৃদয় এবং আত্মাহীন পরিস্থিতির আত্মা। অর্থাৎ, সাম্যবাদ ধর্মকে মানুষের অস্তিত্বের এক বড় অবলম্বন হিসেবে দেখে। সমাজ যখন মানুষের জন্য কঠিন ও নিষ্ঠুর হয়ে ওঠে, তখন মানুষ ধর্মের মাঝে শান্তির আশ্রয় খোঁজে। কম্যুনিস্টদের লক্ষ্য মানুষের মনের সেই সান্ত্বনাটুকুকে কেড়ে নেওয়া নয়, বরং সমাজ থেকে সেই শোষণ ও নিষ্ঠুরতাকে উপড়ে ফেলা, যা মানুষকে প্রতিনিয়ত যন্ত্রণার সাগরে নিমজ্জিত করে। শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠিত হলে মানুষ যখন পৃথিবীতেই তার ন্যায্য অধিকার, সুখ ও মর্যাদা ফিরে পাবে, তখন সান্ত্বনার জন্য তাকে আর কোনো অলীক কল্পনার ওপর নির্ভর করতে হবে না।

4 মাস আগে

চিত্রণ ভট্টাচার্য আদি

উত্তর দিয়েছেন

চিত্রণ ভট্টাচার্য আদি

ছাত্রনেতা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট

এই উত্তরটি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কারণ: উত্তরটি সঠিক নয়

https://majdur.red/blog/neelmoyhridoy/bN81WCivmb

এইটা পড়লে বুঝতে পারবেন

4 মাস আগে

Muhammad Alif

উত্তর দিয়েছেন

Muhammad Alif

উত্তর দিন

উত্তর দিতে লগইন করুন

Reading

Font size