প্রশ্নটি
125
বার দেখা
হয়েছে
পশ্চিমবঙ্গে বাম শাসনের ফলাফল বিবেচনায় বাংলাদেশে বাম রাজনীতির যৌক্তিকতা কী?
আইনস্টাইনের নামে একটি জনপ্রিয় উক্তি প্রচলিত আছে—“একই কাজ বারবার করে ভিন্ন ফল আশা করা বোকামি।” সেই প্রসঙ্গ থেকে আমার একটি প্রশ্ন।
বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে ভাষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক কাঠামোর অনেক মিল রয়েছে। প্রায় ৩৪ বছর পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় ছিল। এত দীর্ঘ শাসন সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গ উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি; বরং শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভারতের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় পিছিয়ে পড়েছে।
তর্কের খাতিরে যদি ধরা হয় যে বাম শাসনের কারনে পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতি খারাপ হয়নি; উন্নতও তো হয়নি, তাহলে বাংলাদেশে বামপন্থী শাসন এলে পরিস্থিতি ভিন্ন হবে বলে কেন আশা করা উচিত?
পশ্চিমবঙ্গের বাম নেতৃত্বের মধ্যে অনেক অভিজ্ঞ, তাত্ত্বিকভাবে দক্ষ ও ব্যক্তিগতভাবে সৎ ও ত্যাগী নেতা ছিলেন। যদি তাঁদের নেতৃত্বেও কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জিত না হয়ে থাকে, তাহলে বাংলাদেশে বামপন্থী শাসনের পক্ষে সবচেয়ে শক্তিশালী যুক্তিগুলো কী?
অর্থাৎ, পশ্চিমবঙ্গের অভিজ্ঞতাকে বিবেচনায় নিলে বাংলাদেশে বামপন্থী রাজনীতি বা শাসনব্যবস্থা সফল হবে বলে আপনারা কেন মনে করেন?
বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে ভাষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক কাঠামোর অনেক মিল রয়েছে। প্রায় ৩৪ বছর পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় ছিল। এত দীর্ঘ শাসন সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গ উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক অগ্রগতি অর্জন করতে পারেনি; বরং শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভারতের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় পিছিয়ে পড়েছে।
তর্কের খাতিরে যদি ধরা হয় যে বাম শাসনের কারনে পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতি খারাপ হয়নি; উন্নতও তো হয়নি, তাহলে বাংলাদেশে বামপন্থী শাসন এলে পরিস্থিতি ভিন্ন হবে বলে কেন আশা করা উচিত?
পশ্চিমবঙ্গের বাম নেতৃত্বের মধ্যে অনেক অভিজ্ঞ, তাত্ত্বিকভাবে দক্ষ ও ব্যক্তিগতভাবে সৎ ও ত্যাগী নেতা ছিলেন। যদি তাঁদের নেতৃত্বেও কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জিত না হয়ে থাকে, তাহলে বাংলাদেশে বামপন্থী শাসনের পক্ষে সবচেয়ে শক্তিশালী যুক্তিগুলো কী?
অর্থাৎ, পশ্চিমবঙ্গের অভিজ্ঞতাকে বিবেচনায় নিলে বাংলাদেশে বামপন্থী রাজনীতি বা শাসনব্যবস্থা সফল হবে বলে আপনারা কেন মনে করেন?
4 মাস আগে
জানতে চেয়েছেন
Emön Raisul H.1 টি উত্তর
আপনার প্রশ্নটি আপাতদৃষ্টিতে যৌক্তিক মনে হলেও এর গভীরে একটি বড় রাজনৈতিক ভুল রয়েছে। আইনস্টাইনের উক্তিটি এখানে খাটে না, কারণ পশ্চিমবঙ্গের শাসন আর বাংলাদেশের বামপন্থীদের লড়াইয়ের ক্ষেত্র সম্পূর্ণ আলাদা। পশ্চিমবঙ্গ কোনো স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র নয়, বরং ভারতের পুঁজিবাদী কাঠামোর ভেতরের একটি অঙ্গরাজ্য মাত্র। একটি প্রাদেশিক সরকারের হাতে নিজস্ব মুদ্রানীতি, শুল্ক কাঠামো বা বৈদেশিক বাণিজ্যের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীন ক্ষমতা থাকে না। উপরন্তু দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকার সবসময়ই বামশাসিত পশ্চিমবঙ্গের প্রতি বৈষম্যমূলক নীতি গ্রহণ করেছিল। যেমন পণ্য পরিবহন মাশুল সমীকরণ নীতির কারণে পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহাসিক শিল্পায়নের সুবিধা নষ্ট হয়, যা তাদের অর্থনৈতিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। অন্যদিকে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। এখানে বামপন্থীরা ক্ষমতায় এলে ব্যাংকিং খাত, মুদ্রানীতি, আমদানি রপ্তানি ও জাতীয় সম্পদ ব্যবহারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পাবে। ফলে ভারতের কাঠামোর ভেতরের সেই সীমাবদ্ধতা স্বাধীন বাংলাদেশে থাকবে না।
দ্বিতীয়ত পশ্চিমবঙ্গের বাম শাসনকে পুরোপুরি ব্যর্থ বলা ভুল। তারা ভূমি সংস্কারের মাধ্যমে লাখ লাখ ভূমিহীন কৃষকের হাতে জমির মালিকানা তুলে দিয়েছিল, যা গ্রামীণ দারিদ্র্য দূর করে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়িয়েছিল। পঞ্চায়েত ব্যবস্থার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের হাতে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছিল। তবে বিশ্বায়নের যুগে শিল্পায়নের উদ্যোগে কৃষকদের মনস্তত্ত্ব সঠিকভাবে বুঝতে না পারাটা তাদের কৌশলগত ভুল ছিল। দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ আমাদের শেখায় ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে ভুল সংশোধন করাই প্রকৃত কমিউনিস্টের কাজ। বাংলাদেশের বামপন্থীরা তাদের সাফল্য ও ভুল দুটি থেকেই শিক্ষা নিয়ে নিজেদের রণকৌশল সাজাবে।
তৃতীয়ত বাংলাদেশের বাম রাজনীতির যৌক্তিকতা কোনো বিদেশি মডেলের ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠেনি, বরং এটি তৈরি হয়েছে এদেশের নিজস্ব সংকট থেকে। পুঁজিবাদী কাঠামোর ভেতর থেকে সংস্কারের মাধ্যমে এর স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন আমূল সমাজতান্ত্রিক রূপান্তর। পশ্চিমবঙ্গের নেতারা একটি পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের ঘেরাটোপে থেকে কাজ করেছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশে বামপন্থীদের লক্ষ্য কেবল সরকার গঠন নয়, বরং শ্রমিক ও কৃষক শ্রেণির নেতৃত্বাধীন একটি সার্বভৌম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা, যা গুণগতভাবে পশ্চিমবঙ্গের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা।
দ্বিতীয়ত পশ্চিমবঙ্গের বাম শাসনকে পুরোপুরি ব্যর্থ বলা ভুল। তারা ভূমি সংস্কারের মাধ্যমে লাখ লাখ ভূমিহীন কৃষকের হাতে জমির মালিকানা তুলে দিয়েছিল, যা গ্রামীণ দারিদ্র্য দূর করে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়িয়েছিল। পঞ্চায়েত ব্যবস্থার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের হাতে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছিল। তবে বিশ্বায়নের যুগে শিল্পায়নের উদ্যোগে কৃষকদের মনস্তত্ত্ব সঠিকভাবে বুঝতে না পারাটা তাদের কৌশলগত ভুল ছিল। দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ আমাদের শেখায় ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে ভুল সংশোধন করাই প্রকৃত কমিউনিস্টের কাজ। বাংলাদেশের বামপন্থীরা তাদের সাফল্য ও ভুল দুটি থেকেই শিক্ষা নিয়ে নিজেদের রণকৌশল সাজাবে।
তৃতীয়ত বাংলাদেশের বাম রাজনীতির যৌক্তিকতা কোনো বিদেশি মডেলের ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠেনি, বরং এটি তৈরি হয়েছে এদেশের নিজস্ব সংকট থেকে। পুঁজিবাদী কাঠামোর ভেতর থেকে সংস্কারের মাধ্যমে এর স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন আমূল সমাজতান্ত্রিক রূপান্তর। পশ্চিমবঙ্গের নেতারা একটি পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের ঘেরাটোপে থেকে কাজ করেছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশে বামপন্থীদের লক্ষ্য কেবল সরকার গঠন নয়, বরং শ্রমিক ও কৃষক শ্রেণির নেতৃত্বাধীন একটি সার্বভৌম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা, যা গুণগতভাবে পশ্চিমবঙ্গের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা।
document.getElementById('answers-list')?.scrollIntoView({ behavior: 'smooth', block: 'start' }), 150)">
উত্তর দিন
উত্তর দিতে লগইন করুন