প্রায়ই আমরা বিভিন্ন সিনেমা বা চলচ্চিত্রে দেখি যে, বিজ্ঞানীরা যখন মানুষের প্রয়োজনীয় নতুন কোনো ওষুধ বা থেরাপি আবিষ্কার করেন। তখন প্রথমে সেটা সরাসরি মানুষের উপর প্রয়োগ না করে, ইঁদুরের উপর প্রয়োগ করেন। এটা শুধুমাত্র সিনেমা বা কল্পকাহিনি নয়,বাস্তব জীবনেও এমনটা ঘটে। বিজ্ঞানীরা ল্যাবে নতুন কোনো ওষুধ বা ভ্যাকসিন আবিষ্কার করলে,সেটি সরাসরি মানুষের ওপর প্রয়োগ না করে আগে ইঁদুর (Mouse and Rat), গিনিপিগসহ অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীর ওপর প্রয়োগ করে পরীক্ষা করে থাকেন।
কিন্তু কখনো কি মনে প্রশ্ন এসেছে? যে মানুষের জন্য তৈরিকৃত ঔষধ বা যেকোনো গবেষণা ভিত্তিক কার্যক্রমের পরীক্ষার জন্য ইঁদুরের উপর আগে পরীক্ষা করা হয় কেনো?
তাহলে,চলুন। জেনে আসি এর পেছনের রহস্য—
মূলত,যেকোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য বিজ্ঞানীদের ফলো করতে সুনির্দিষ্ট কিছু বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হলো পরীক্ষণ। কারণ যেকোনো বৈজ্ঞানিক ধারণা শুরুতে (হাইপোথিসিস) গবেষণাগারে পরীক্ষা করে দেখতে হয়। একটি নতুন আবিষ্কার বা উদ্ভাবন আসলেই কতটা কার্যকর,কি কি সমস্যার সৃষ্টি করছে, কিভাবে উন্নতি করা যায় — এসবের জন্য গবেষণাগারে পরীক্ষা করে দেখা হয়। এসকল পরীক্ষা মূলত নতুন আবিষ্কার বা উদ্ভাবন মানুষের অথবা সমাজের উপর কেমন প্রভাব ফেলতে পারে — তা দেখার জন্য করা হয়।
ABC 10 ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক আর্টিকেলে বলা হয়; আমেরিকার ফাউন্ডেশন ফর বায়োমেডিক্যাল রিসার্চের মতে, মানুষ ও ইঁদুর জেনেটিক দিক থেকে একে অপরের সঙ্গে অনেকটাই সাদৃশ্যপূর্ণ। এদের জিনগত, জৈবিক এবং আচরণগত বৈশিষ্ট্য মানুষের সঙ্গে অনেকটাই মেলে। মূলত মানুষ আর ইঁদুরের ডিএনএ এর মধ্যে ৯৮ শতাংশের বেশি মিল পাওয়া যায় । সেজন্য মানুষের নানা শারীরিক সমস্যার লক্ষণ ইঁদুরের মধ্যেও দেখা যায়। যার কারণেই বিজ্ঞানীরা — মানুষের জন্য নতুন কোনো ভ্যাকসিন বা ঔষধ আবিষ্কার করলে, সেটা ইঁদুর (Mouse and Rat), গিনিপিগসহ অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীর ওপর প্রয়োগ করে পরীক্ষা করে থাকেন।
উইকিপিডিয়ার তথ্যানুসারে, মেডিক্যাল ট্রায়ালে ব্যবহার করা বেশির ভাগ ইঁদুর জাতীয় প্রাণীর বংশবৃদ্ধি ল্যাবেই করানো হয়, যার কারণে শুধু লিঙ্গপার্থক্য ছাড়া তাদের জিনগত আর সব বৈশিষ্ট্য প্রায় একই হয়। ন্যাশনাল হিউম্যান জিনোম রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মতে, পরীক্ষার ফলাফল একই রকম করার জন্য — মূলত;এটা করা হয়।
এখন কথা হলো, ইঁদুর ছাড়া কী অন্য কোনো বিকল্প নেই? যার মাধ্যমে এই পরীক্ষাগুলো সঠিকভাবে করা সম্ভব।
যদিও কম্পিউটার মডেল, সেল কালচার এবং অন্যান্য গবেষণা পদ্ধতির সুবাদে প্রাণীর ব্যাবহারের প্রয়োজনীয়তা অনেকাংশে কমেছে। কিন্তু এটা পুরোপুরি ইঁদুরের উপর পরীক্ষিত ফলাফলের প্রতিস্থাপন করতে পারে না। কারণ ইঁদুরের ওপর পরীক্ষার ফলাফল দ্রুত প্রভাব ফেলে। যার কারণেই তাদের উপর পরীক্ষা চালানো হয়। তাছাড়া, ইঁদুরের ব্রিডিং থেকে শুরু করে রক্ষণাবেক্ষণ তূলনামূলক সহজ হওয়ায় বিজ্ঞানীরা সেজন্য ইঁদুরকেই বেছে নেন।
—সাইফ রৌদ্র
মন্তব্য মুছবেন?
এটা বাতিল করা যাবে না।
আলোচনায় অংশ নিন
আলোচনায় অংশ নিতে লগ ইন করুন অথবা এ্যাকাউন্ট খুলুন
সাইন ইন করুন