নাগরিকদের জন্য ন্যূনতম যে অধিকার, আয়োজন রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন, সেগুলো জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে সকলের জন্য রাষ্ট্র বাস্তবায়ন করে থাকে। আর এই সকল পরিমণ্ডল থেকে নাগরিকদের বঞ্চিত করবার চেষ্টাই হচ্ছে রাষ্ট্রের মানবাধিকার লঙ্ঘন। বাংলাদেশে রাষ্ট্র কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্রগুলো প্রচণ্ড ভয়াবহ ও স্তরভেদে সাজিয়ে রাখা। নারী-শিশু, সাম্প্রদায়িকতা, সংখ্যালঘু ও বিশেষত পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী নিপীড়ন অন্যতম।
পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী নাগরিকদের মৌলিক অধিকারগুলোকে নির্ধারণ করবার প্রক্রিয়া বর্ণবাদী ও বিদ্বেষযুক্ত বিবেচনায় হয়ে থাকে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে নাগরিক সম্পূর্ণ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। এই সকল বিবেচনায় রাষ্ট্র যেমন জাতিগত বৈষম্য তৈরি করে, পাশাপাশি কিছু সামাজিক ও প্রাকৃতিক বৈষম্য তৈরি করে মৌলিক অধিকার থেকে নাগরিক বঞ্চিত করে। সচেতন নাগরিকরা বঞ্চনার আকুতি কিংবা প্রতিবাদ গড়ে তোলবার চেষ্টা করলে বঞ্চনার পাশাপাশি নিপীড়ন, নির্যাতন নেমে আসে আরো তীব্রভাবে।
অথচ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক (১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর ঘোষিত সর্বজনীন ঘোষণাপত্র অনুযায়ী) সকল মানুষের সমমর্যাদা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মত-ভিন্নমত প্রকাশের অধিকারসহ প্রগতিশীল চিন্তার চর্চা ও আইন, বিচার, ভোটাধিকার; জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও আদিবাসীসহ নির্বিশেষে সকলের সকল অধিকার নিশ্চিত করতে হবে সমানভাবে। বাংলাদেশ রাষ্ট্রে সেটি সর্বোচ্চ পরিমাণে লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং যথারীতি সেটি এখনো নানাভাবে বিদ্যমান রয়েছে।
সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ও সৈনিকদের আদিবাসী নাগরিকদের ব্যাপারে জাতবিদ্বেষ ও বর্ণবাদী দৃষ্টিভঙ্গির অনুশীলন করানো হয়। পাহাড়ে শিশুদের উপর পরিকল্পিতভাবে মানসিক অত্যাচার ও নিপীড়নের আয়োজন সৃষ্টি করা রয়েছে, যাতে শিশুরা কোনোভাবে পাহাড়ের অধিকার সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে না উঠে। বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চল একটি পর্যটন শিল্প হিসেবে বাংলাদেশ রাষ্ট্র বহুল প্রচলিত করতে চাইলেও, এর বাইরে এক অদৃশ্য শাসনব্যবস্থা পরিচালিত করছে বাংলাদেশ রাষ্ট্র। পার্বত্য অঞ্চলে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবন-বৈচিত্র্যের সংগ্রামকে রাষ্ট্র কর্তৃক নিমজ্জিত রাখবার প্রচেষ্টা গত ৫৪ বছর অতিবাহিত হচ্ছে। আর এই শাসন পরিচালনার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী যুক্ত। পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী জনগোষ্ঠী যেমন ভয়ংকর অধিকার বঞ্চনা নিয়ে বসবাস করছে, অন্যদিকে ব্যবস্থাগত নিপীড়ন ও জাতিগতভাবে নিধনের শিকার হচ্ছে।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাসস্থান থেকে শুরু করে মতপ্রকাশের অধিকার পর্যন্ত হরণ করা হচ্ছে পরিকল্পিত প্রক্রিয়ায়। অন্যদিকে জাতিগত বিদ্বেষের আড়ালে আদিবাসী নিধনের ঘটনাও প্রবলভাবে সংগঠিত হচ্ছে। রাষ্ট্র কর্তৃক অবৈধ সেটেলারদের বসবাসের আয়োজন সৃষ্টি ও সেটেলার কর্তৃক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা উৎপাদন করে হত্যা, নারী নির্যাতন, নিপীড়ন পরিচালনা হয়ে থাকে। বাংলাদেশে স্বাধীনতা-পূর্ববর্তী ও স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে একই প্রক্রিয়ায় পার্বত্য চট্টগ্রামে এই ধারাবাহিক শাসন পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশের নানা আন্দোলন, সংগ্রাম, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বারবার শাসক পরিবর্তন হয়, সেসব আন্দোলনে আদিবাসী জনগোষ্ঠী কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অংশ নিলেও আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে রাষ্ট্র থেকে আলাদা পর্যায়ে বিবেচিত করা হয়। সামাজিকভাবে একটি বর্ণবাদী দৃষ্টিভঙ্গির আবির্ভাব করা হয়।
গত কয়েক দশক ধরে ধাপে ধাপে আদিবাসীদের উপর অত্যাচার, নিপীড়ন পরিচালিত হচ্ছে। উল্লেখ্য ১৯৮০, ১৯৮১, ১৯৯২, ১৯৯৬ সালসহ বিভিন্ন সময়ে বাঙালি ও সেনাবাহিনী কর্তৃক পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ওপর অসংখ্য হামলা, নির্যাতন, ঘরবাড়ি পোড়ানোসহ প্রায় হাজারের অধিক হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পত্র-পত্রিকা ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রতি বছর আদিবাসী জনগোষ্ঠী হত্যার শিকার হন। তার মধ্যে ৮০ শতাংশ আদিবাসী জনগোষ্ঠী সেনাবাহিনী ও সেনাবাহিনী মদদপুষ্ট আঞ্চলিক সংগঠন কর্তৃক গোলাগুলিতে নিহত হন।
পাহাড়ে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার ও স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে দীর্ঘদিন লড়াই-সংগ্রামে ভূমিকা রাখা নারীনেত্রী ও মানবাধিকার কর্মী কল্পনা চাকমাকে রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার লাইল্যাঘোনা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে অপহরণ করা হয়েছিল ১৯৯৬ সালে, যার খোঁজ এখনো মেলেনি। সে অপহরণের সাথে সেনাবাহিনীর সম্পৃক্ততা রয়েছে অভিযোগ থাকলেও সেনাবাহিনী সঠিক তথ্য এখনো পর্যন্ত দিতে পারেনি। উল্টো সেনাবাহিনী কর্তৃক নানাভাবে কল্পনা চাকমার চরিত্রহনন করবার কার্যক্রম চলছে।
আদিবাসী রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর সংগঠক মাইকেল চাকমাকে ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল ঢাকার নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর থেকে ঢাকায় ফেরার পথে গুম করা হয়। ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর নিখোঁজের দীর্ঘ ৫ বছর ৩ মাস পর ৭ আগস্ট ভোরে চট্টগ্রামের একটি স্থানে তাকে চোখ বাঁধা অবস্থায় ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ছাড়াও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাসে দিনে দিনে কড়াকড়ি আরোপ করে চলেছে সেনাবাহিনী।
আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার সমস্ত কর্মসূচি সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ নজরদারির উপর ভিত্তি করে পরিচালিত করা হয়। এই শাসনব্যবস্থা এমন পর্যায় অতিক্রম করেছে যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ জরুরি ওষুধ সংগ্রহ করতেও পার্বত্য চট্টগ্রামের বেশ কিছু অঞ্চলে সেনাবাহিনীর অনুমতি সাপেক্ষে সংগ্রহ, ক্রয়, বিক্রয় করার অঘোষিত বিধান ঠুকে দেওয়া হয়েছে।
একজন আদিবাসী জনগোষ্ঠী নাগরিককে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রাম, কিংবা বাসা থেকে স্কুল, বাজার অথবা শহরের বাইরে কিংবা ভেতরে প্রবেশ করতে হলে সেনাবাহিনীর নিকট জবাবদিহিতা ও হেনস্তা উপেক্ষা করতে হয়। আদিবাসী শিক্ষার্থীরা একদিকে যেমন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার সুযোগে স্বল্পমাত্রার আয়োজন পেয়ে থাকে, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় সীমাবদ্ধ আয়োজনও সৃষ্টি করা হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামে। এরপরও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষায় যারা পড়বার ন্যূনতম সুযোগ পেয়ে থাকে, তাদের নানাভাবে নিপীড়ন, বিদ্বেষের মুখোমুখি পড়তে হয়।
সেসব মোকাবিলা, অধিকার সচেতনতাবোধ থেকে আদিবাসী শিক্ষার্থীরা সংঘবদ্ধ হলে, অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নিয়োজিত হলে, সে সংঘবদ্ধতাকে ভেঙে দেওয়া হয়; বিশেষ প্রয়োজনে সেনাবাহিনী মদদপুষ্ট আঞ্চলিক বাহিনী দ্বারা হত্যাকাণ্ড পরিচালনা করা হয়। তেমনি উদাহরণ ২০২৩ সালের ১১ ডিসেম্বর পানছড়িতে পিসিপির ছাত্রনেতা বিপুল চাকমাসহ চারজনের হত্যাকাণ্ড।
পরবর্তী বছর ২০২৪ সালের ২৪ জানুয়ারি ইউপিডিএফের সংগঠক রবিকুমার চাকমাসহ তিনজনের হত্যাকাণ্ড। একই বছর প্রায় ২১টি হত্যাকাণ্ড, বাসস্থানে সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ হামলাসহ আদিবাসী শিশুদের সেনা কর্মকর্তা দ্বারা মানসিক নির্যাতনের ঘটনাও সংগঠিত হয়েছে।
২০২৪ সালে একটি বিচ্ছিন্ন ও পরিকল্পিত ব্যাংক ডাকাতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে বম জাতিগোষ্ঠীর উপর বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে সেনাবাহিনী, এতে অসংখ্য বম জাতিগোষ্ঠীর শিশু, শিক্ষার্থী ও পরিবারসহ গণগ্রেপ্তার পরিচালনা করে। যা মানবাধিকারের চূড়ান্ত লঙ্ঘন, একসাথে ৫৯-এর উপরে বম পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার সময়ে পরিবারের যেসকল সদস্য শিক্ষার্থী পার্বত্য চট্টগ্রামের বাইরে অবস্থান করছিলেন তাদেরও গণগ্রেপ্তার করা হয়। গত ১৫ মে ও ১৭ জুলাই ২০২৫ লাললেং কিম বম ও ভান লাল রোয়াল বম জেল হেফাজতে মৃত্যুবরণ করেন। এখনো প্রায় অনেক বম আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সদস্যরা বিনাবিচারে কারাগারে আটক রয়েছেন।
বাংলাদেশে গত ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জনগোষ্ঠী দীর্ঘ অত্যাচার, নিপীড়ন, বঞ্চনা থেকে মুক্তি পেতে সমতলের মানুষের সাথে ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করে। অথচ গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আরো তীব্রভাবে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর উপর অত্যাচার সংগঠিত হয়। কেবল সেনাবাহিনী নয়, সাথে যুক্ত হলো উগ্র সেটেলারদের মব সন্ত্রাস ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আদিবাসীদের উপর অত্যাচার।
ড. ইউনূস গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের ক্ষমতা গ্রহণের পর সেটেলার ও সেনাবাহিনীর মৌন সমর্থনে আদিবাসীদের উপর দফায় দফায় হামলা, ভাঙচুর, হত্যা, অত্যাচার ও নারী নিপীড়ন, বাসস্থানে অগ্নিসংযোগ সংগঠিত হয়।
সবচেয়ে ন্যক্কারজনকভাবে আন্দোলনরত আদিবাসী জনগোষ্ঠীর উপর ১৬ জানুয়ারি ২০২৫ ঢাকায় প্রকাশ্যে 'স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি'র ব্যানারে মুসলিম বাঙালি সেটেলার ও মৌলবাদী গোষ্ঠী কর্তৃক নৃশংস ও বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। এ হামলায় কমপক্ষে ১৮ জন আদিবাসী ছাত্র-ছাত্রী ও যুবক গুরুতরভাবে আহত হন।
এছাড়া বহিরাগত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, সেনা সমিতি, সেনা, পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনীর প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সেটেলার নাগরিক কর্তৃক কমপক্ষে ৩০০ একর ভূমি বেদখল করা হয়েছে। কোথাও কোথাও এসব জমি আদিবাসী জনগোষ্ঠীদের নানা হুমকি, অত্যাচার, ভয় দেখিয়ে নামমাত্র টাকায় কিনে নেন।
আদিবাসী নারীদের উপর প্রায় ১৪ থেকে ১৬টি ঘটনা সংগঠিত হয়েছে যাতে ১৬/১৮ জন নারী ধর্ষণ, নিপীড়ন, নির্যাতনের শিকার হয়েছে। গত ২৭ জুন ২০২৫ রথযাত্রার মেলায় অংশ নেওয়ার পর রাতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে ছিল ওই কিশোরী। সেখানে গভীর রাতে ছয়জন ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাহাড়ে আদিবাসী শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিবাদ কর্মসূচি গ্রহণ করলে সেনাবাহিনী সে কর্মসূচিতে বাধা দেন, ভিডিও ও সংবাদ সংগ্রহে বাধা প্রদান করেন। অর্থাৎ পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সমস্ত নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে, রাজনৈতিক অধিকার নেই বললে চলে। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর যে দুই-একটা রাজনৈতিক সংগঠন রয়েছে, দীর্ঘদিন পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার, গণতান্ত্রিক দাবি আদায়ের দাবিতে আন্দোলন-সংগ্রাম করছেন, তাঁদের দল হিসেবে নিবন্ধন পর্যন্ত দেওয়া হয় না। স্থানীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসীদের জনপ্রতিনিধি পদে কারা প্রতিনিধিত্ব করবেন, সেটি সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিকভাবে রাষ্ট্রের একটি অদৃশ্য শক্তি ঠিক করে দেন।
সুতরাং পার্বত্য চট্টগ্রামে মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে তীব্রতা বাড়ছে সেটি অব্যাহত থাকলে পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী জনগোষ্ঠী নির্মূল হয়ে পড়বে। সেনাবাহিনীর অবৈধ, অঘোষিত ও অদৃশ্য শাসনব্যবস্থার ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জনগোষ্ঠী ভীষণভাবে নিপীড়িত হচ্ছে। এতে বেশি অত্যাচার ও নির্যাতনের মুখোমুখি হচ্ছে আদিবাসী শিশু ও নারী। অনতিবিলম্বে পাহাড়ে সেনাশাসন প্রত্যাহার না করলে, আদিবাসীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা না করলে, পাহাড়ে স্বায়ত্তশাসন আন্দোলন স্বাধীনতা আন্দোলনে রূপান্তরের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে। অর্থাৎ রাষ্ট্র কর্তৃক রাষ্ট্রীয় বাহিনী দ্বারা কোনো সম্প্রদায়, গোষ্ঠী বা অঞ্চলকে অগণতান্ত্রিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হলে সেটির ফল কিন্তু ভালো হয় না। এর যে পাল্টা প্রতিরোধ সেটি তখন ঠেকানো মুশকিল হয়ে পড়ে।
অন্যদিকে সেনাবাহিনীর অমানবিক চর্চা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে অনুশীলন পাহাড়ে হচ্ছে সেটির প্রতিক্রিয়া সমতলেও খুব শীঘ্রই নেমে আসতে পারে। তাই পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্বায়ত্তশাসন ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিতের উদ্যোগ নিতে হবে। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ভাবে যে অবৈধ আয়োজন তৈরি করা হয়েছে আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে নিধন করবার উদ্দেশ্যে সেটি থেকে রাষ্ট্রকে বের হতে হবে। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আদিবাসীদের অধিকারসমূহ বণ্টন করতে হবে, দখলকৃত ভূমি ফিরিয়ে দিয়ে আদিবাসীদের শোষণ করা বন্ধ করতে হবে।
About the Author
মারুফ হাসান ভূঞা
মারুফ হাসান ভূঞা আমি একজন লেখক , শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শ্রমজীবী মানুষ ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে লেখি।
প্রোফাইল দেখুন
মন্তব্য মুছবেন?
এটা বাতিল করা যাবে না।
আলোচনায় অংশ নিন
আলোচনায় অংশ নিতে লগ ইন করুন অথবা এ্যাকাউন্ট খুলুন
সাইন ইন করুন