বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন অনেক ঘটনা আছে, যেগুলো নিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিস্মিত হবে। তারা অবাক হয়ে জানতে চাইবে, এত সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আমরা কেন কিছু সুযোগ কাজে লাগাতে পারিনি।
আমার ধারণা, "হাদি স্টোর" না হওয়াও তেমনই একটি ঘটনা!
বিগত কয়েক বছরে "আমরা সবাই হাদি হবো" স্লোগানটি একটি সাধারণ স্লোগানের সীমা অতিক্রম করে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এই ধারণার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করেছে। কিন্তু একটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর আজও পাওয়া যায়নি!
যদি সবাই হাদি হতে চায়, তাহলে তারা কোথায় যাবে?
এই প্রশ্নকে অনেকে হাস্যরস হিসেবে দেখলেও বিষয়টি প্রকৃতপক্ষে একটি গুরুতর নীতিগত শূন্যতার দিকে ইঙ্গিত করে।
বর্তমানে দেশে হাদি হওয়ার কোনো স্বীকৃত অবকাঠামো নেই। নেই কোনো প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, নেই কোনো সার্টিফিকেশন ব্যবস্থা, নেই কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ফলে একজন আগ্রহী নাগরিককে সম্পূর্ণ অনানুষ্ঠানিক পদ্ধতিতে হাদি হওয়ার চেষ্টা করতে হয়। এর ফলে জাতীয় হাদি উন্নয়ন প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বিশ্বের সফল আন্দোলনগুলো লক্ষ্য করলে দেখা যায়, তারা কেবল স্লোগানের ওপর নির্ভর করেনি। তারা প্রতিষ্ঠান গড়েছে, প্রশিক্ষণ দিয়েছে, পণ্য তৈরি করেছে এবং একটি পূর্ণাঙ্গ ইকোসিস্টেম নির্মাণ করেছে।
কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে স্লোগান এসেছে আগে, অবকাঠামো আসেনি কখনো।
একটি পূর্ণাঙ্গ হাদি স্টোর প্রতিষ্ঠা করা হলে সেখানে নিম্নলিখিত সুবিধাগুলো চালু করা যেত:
হাদি অনুমোদিত পাঞ্জাবি ও পোশাক সংগ্রহ
প্রাথমিক ও উচ্চতর হাদি প্রশিক্ষণ
হাদি সাহিত্য ও গবেষণা বিভাগ
হাদি জীবনধারা বিষয়ক পরামর্শক সেবা
বার্ষিক হাদি দক্ষতা মূল্যায়ন পরীক্ষা
মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য হাদি বৃত্তি
পাশাপাশি একটি জাতীয় হাদি কারিকুলামও প্রণয়ন করা যেত। যেখানে "Introduction to Hadiology", "Comparative Hadiology", "Applied Hadi Studies" এবং "Advanced Hadi Development Program" এর মতো কোর্স অন্তর্ভুক্ত থাকত।
অর্থনীতির ভাষায় বলতে গেলে, এখানে একটি ক্লাসিক Supply-Demand Gap বিদ্যমান। যেখানে চাহিদা রয়েছে, ব্র্যান্ড রয়েছে, অনুসারী রয়েছে, রয়েছে সাংস্কৃতিক পুঁজি! কিন্তু সরবরাহ ব্যবস্থা নেই!
ফলে দেশের সম্ভাব্য হাদি অর্থনীতি (Hadi Economy) দীর্ঘদিন ধরে অনাবিষ্কৃত অবস্থায় পড়ে আছে।
একটি প্রাথমিক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে হাদি স্টোর না থাকার ফলে সম্ভাব্য হাদি জিডিপির প্রায় ৯৭.৩৪% এখনো বাস্তব অর্থনীতিতে প্রবেশ করতে পারেনি।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, গত অর্থবছরেই দেশ প্রায় ৪৭ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ সম্ভাব্য হাদি-ভিত্তিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম হারিয়েছে!
কিছু স্বাধীন গবেষক অনুমান করেন যে, হাদি স্টোর প্রতিষ্ঠিত হলে দেশের সামগ্রিক হাদি উৎপাদন সক্ষমতা কয়েকশত শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারত। যদিও এই গবেষকদের পরিচয় এখনো অজ্ঞাত এবং গবেষণাপত্রগুলোর অবস্থানও রহস্যজনক।
এখানেই শেষ নয়! কিছু বিশ্লেষক আরও গুরুতর একটি প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন।
হাদি স্টোর আজও কেন প্রতিষ্ঠিত হয়নি?
এটি কি কেবল পরিকল্পনার অভাব? নাকি কোনো অদৃশ্য অ্যান্টি-হাদি লবি দীর্ঘদিন ধরে এই খাতের বিকাশ বাধাগ্রস্ত করে আসছে!?
ইতিহাসে অনেক জাতি শিল্পবিপ্লব মিস করেছে।
কেউ প্রযুক্তিবিপ্লব মিস করেছে।
কেউ জ্ঞানবিপ্লব মিস করেছে।
বাংলাদেশ হয়তো একদিন আবিষ্কার করবে যে, আমরা "হাদি বিপ্লবের" বাণিজ্যিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগটিই হারিয়ে ফেলেছিলাম।
বাংলাদেশ সরকারের প্রতি বিনীত আহ্বান, বিষয়টি জাতীয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে একটি "হাদি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ" গঠন করা হোক এবং ২০৪১ সালের মধ্যে নুন্যতম ১০০টি মডেল হাদি স্টোর প্রতিষ্ঠার রোডম্যাপ ঘোষণা করা হোক।
About the Author
Talha Mohammad Chowdhury
Reader, writer, and observer. Interested in politics, history, economics, satire, and the contradictions of modern society. Here to learn, question, and contribute to meaningful discussions.
প্রোফাইল দেখুন
মন্তব্য মুছবেন?
এটা বাতিল করা যাবে না।
আলোচনায় অংশ নিন
আলোচনায় অংশ নিতে লগ ইন করুন অথবা এ্যাকাউন্ট খুলুন
সাইন ইন করুন